লেভানদোভস্কির হ্যাটট্রিক, বার্সেলোনার দাপুটে জয়

0
27

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের কাছে হারের পর লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের হোঁচট খাওয়ার সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগাল বার্সেলোনা। রবার্ট লেভানদোভস্কির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে কাতালানরা রবিবার রাতে (০৯ নভেম্বর) সেল্টা ভিগোকে ৪-২ গোলে পরাজিত করেছে। এই জয়ের ফলে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে তারা মাদ্রিদের ঠিক পরেই অবস্থান নিয়েছে এবং পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র তিন।

প্রায় এক মাসের ইনজুরি বিরতি শেষে গত সপ্তাহে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন লেভানদোভস্কি। এই ম্যাচেই তিনি যেন নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন। সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম গোল পেলেন, তাও একসঙ্গে তিনটি। এই মৌসুমে এটি ছিল তার নবম গোল এবং বার্সার জার্সিতে এক বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম হ্যাটট্রিক।

ম্যাচের ১০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেন লেভানদোভস্কি। ফেরমিন লোপেজের শটে মার্কোস আলোনসোর হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজে। পোলিশ তারকার জোরালো শট ঠেকাতে পারেননি রাদু।

তবে এর মাত্র এক মিনিটেরও কম সময় পরই সমতায় ফেরে সেল্টা। বার্সার উচ্চ রক্ষণভাগ ভেদ করে বোরহা ইগলেসিয়াসের থ্রু পাসে গোল করেন সের্হিও কারেইরা।

৩৭ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় বার্সা। ডান দিক থেকে র‍্যাশফোর্ডের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে দাঁড়িয়ে থাকা লেভানদোভস্কি শুধু ছোঁয়াটুকু দিয়েই বল জালে জড়ান।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও সমতায় ফেরে সেল্টা। বক্সের বাইরে থেকে ইগলেসিয়াসের নেওয়া শট কোনোভাবেই রুখতে পারেননি বার্সার গোলরক্ষক শেজনি।

কিন্তু হাফটাইমের ঠিক আগেই আবারও লিড নেয় বার্সা। র‍্যাশফোর্ডের ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে যায় ১৭ বছর বয়সী বিস্ময়বালক ইয়ামালের সামনে, যিনি ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দেন।

বিরতির পর দুই দলই চেষ্টা চালাতে থাকে। অবশেষে ৭৩ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। র‍্যাশফোর্ডের ইনসুইং কর্নারে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান লেভানদোভস্কি। এই গোলের মাধ্যমেই তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

ইংলিশ তারকা র‍্যাশফোর্ড এই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করেন, যা এই মৌসুমে তার ষষ্ঠ অ্যাসিস্টের রেকর্ড। এটি লা লিগায় ইয়ামাল বা ভিনিসিউস জুনিয়রের চেয়েও ভালো রেকর্ড।

ম্যাচের একদম শেষ দিকে ফ্রেংকি ডি ইয়ং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা বার্সার এই দুর্দান্ত জয়ের একমাত্র হতাশার দিক। তবে রিয়াল মাদ্রিদের হোঁচট এবং লেভানদোভস্কির জাদুকরী পারফরম্যান্সের সুবাদে দিনের শেষ হাসিটি বার্সেলোনারই।