দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের হজের অনুমতি দেবে সৌদি সরকার

0
26

সৌদি আরব সরকার ঘোষণা করেছে, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিটি হজযাত্রীর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি হজ পালনের উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সব হজযাত্রী পাঠানো দেশকে চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি হজে অংশ নিতে পারবেন না তাদের মধ্যে রয়েছেন—

  • কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন,

  • গুরুতর হৃদরোগী,

  • অক্সিজেন-নির্ভর ফুসফুসের রোগী,

  • লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তি,

  • স্মৃতিভ্রষ্ট বা গুরুতর মানসিক রোগী,

  • অতি বয়স্ক ব্যক্তি,

  • শেষ প্রান্তিকের গর্ভবতী নারী বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা— এরা কেউই হজের অনুমতি পাবেন না।

এছাড়া সংক্রামক রোগী যেমন যক্ষ্মা বা ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি, কিংবা কেমোথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যানসার রোগীকেও হজে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সৌদি সরকার জানিয়েছে, প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে বৈধ স্বাস্থ্য সনদ ইস্যু করতে হবে। হজযাত্রী পাঠানো কর্তৃপক্ষকে এই সনদ প্রদানের আগে নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আগমন ও বহির্গমন প্রান্তে মনিটরিং দল নুসুক প্ল্যাটফর্মে ইস্যুকৃত স্বাস্থ্য সনদের সত্যতা যাচাই করবে। কোনও দেশের হজযাত্রীর মধ্যে তালিকাভুক্ত স্বাস্থ্য সমস্যা পাওয়া গেলে সে দেশের বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেবে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “মসৃণ ও নিরাপদ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকেও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মানা হবে।”

এর আগে বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রণালয় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হজ নিবন্ধন না করার জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। সৌদি সরকারের অনুরোধে এই বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা নিতে বর্তমানে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসক সৌদি আরবে এক ওয়ার্কশপে অংশ নিচ্ছেন।