নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় আগামী ২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায়ের জন্য ২০ নভেম্বরের তারিখ ধার্য করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
শুনানির পটভূমি: গত ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর আপিল শুনানি শুরু হয়। এর আগে, গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছিল, যা আপিল বিভাগের অনুমোদন পেয়েছিল।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেন। তাদের আপিলের উদ্দেশ্য হলো ১৯৯৬ সালে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির শুনানি করেন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে এর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হলেও ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট সংশোধনীর বৈধতা ঘোষণা করেন। তবে, ২০০৫ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় এবং ২০১১ সালের ১০ মে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। এরপর একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ব্যক্তি এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তাদের মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন উল্লেখযোগ্য।