কম্বোডিয়ার সঙ্গে ‘শান্তিচুক্তি’ স্থগিত করলো থাইল্যান্ড

0
61

সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিজেদের দুই সেনা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘শান্তিচুক্তি’ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে থাইল্যান্ড। সোমবার (১০ নভেম্বর) রয়্যাল থাই আর্মি এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

বিবৃতিতে থাই সেনাবাহিনী উল্লেখ করে, থাইল্যান্ডের সিসাকেত প্রদেশে মাইন বিস্ফোরণে এক সেনা পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় আরেক সেনা বুকে ব্যথা অনুভব করেছেন।

থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং অংকাশাকুলকিয়াত বলেন, ব্যাংকক ‘যৌথ ঘোষণার পরবর্তী কার্যক্রম’ বন্ধ রাখবে, যার অর্থ হলো কম্বোডিয়ার সঙ্গে অক্টোবরের শেষে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের এই চুক্তি স্থগিতের বিষয়ে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তারা এর আগে সীমান্তে নতুন মাইন পুঁতে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। পাশাপাশি সোমবার কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে শান্তির প্রতি তাদের ‘অচল প্রতিশ্রুতি’র কথা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছে। গত জুলাই মাসে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে থাইল্যান্ডের সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সেনারা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। ব্যাংককের দাবি ছিল, বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় কম্বোডিয়ার সেনারা এসব মাইন পুঁতে রেখেছিলেন। ওই সংঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪৩ জন নিহত হন এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ এবং চীনা কূটনীতিক ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় গত ২৯ জুলাই থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া প্রাথমিকভাবে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর গত অক্টোবরের শেষে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে উভয় দেশ যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করে। আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

নতুন যৌথ ঘোষণার শর্ত অনুযায়ী, উভয় পক্ষ সীমান্ত এলাকা মাইনমুক্ত করবে, ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করবে এবং অস্ত্রবিরতি মূল্যায়নের জন্য আসিয়ানের চুক্তি পর্যবেক্ষক দলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। চুক্তির অন্যতম একটি শর্ত ছিল কয়েক মাস ধরে আটকে রাখা কম্বোডিয়ার ১৮ সেনাকে থাইল্যান্ডের মুক্তি দেওয়া। চুক্তি সইয়ের পর কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তারা থাই সীমান্ত থেকে ভারী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।