সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান ৬ মাসেও এগোয়নি

0
34

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান গত ছয় মাসেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

সাত মাস আগে অভিযোগ ওঠার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গোয়েন্দা তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় চলতি বছরের মে মাস থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুসন্ধান শুরু করে।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস ধরে অনুসন্ধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও সেই তথ্য না পাওয়ায় অনুসন্ধান কার্যক্রম এগোয়নি।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়েই অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কিন্তু যে অভিযোগ, এর স্বপক্ষে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও চেষ্টা অব্যাহত আছে। তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে সেই অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে এগোনো হবে।”

দুদকের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ এবং উপসহকারী পরিচালক মিনু আক্তার সুমির সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অব্যাহতি দেওয়ার পর সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে ওঠা গুঞ্জনের বিষয়টি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজেই দুদককে অনুসন্ধানের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। গত ২৪ মে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, দুর্নীতিতে জড়ানো যেই হোক, রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দুদক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটিত করবে।

এদিকে, গত ২৪ মে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।

পরে অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলে ২২ মে মোয়াজ্জেম হোসেন দুদকে হাজির হন। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত দুদকের একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর মোয়াজ্জেম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি পক্ষ ছাত্রদের টার্গেট করে মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিসিএস ভাইভার প্রস্তুতির জন্য ২৫ মার্চ তিনি পদত্যাগ করেছিলেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ তার পদত্যাগের পরে এসেছে।

ছয় মাস পরও অনুসন্ধানে অগ্রগতি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অনুসন্ধান কর্মকর্তারা মুখ খোলেননি। তবে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানানো হবে।