শেখ হাসিনাসহ তিনজনের ভাগ্য নির্ধারণ, সরাসরি সম্প্রচার হবে বিশ্বজুড়ে

'জুলাই গণহত্যা' মামলায় রায় ১৭ নভেম্বর

0
57

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে এই গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। একইসঙ্গে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় এই রায় দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ট্রাইব্যুনাল ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, এই রায় শোনার অপেক্ষায় গোটা জাতি এবং বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। এ বিচারকাজ যেন ভবিষ্যতের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকে, সে কারণেই সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার প্রধান অভিযুক্তরা হলেন: ১. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২. সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ৩. সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হেভিওয়েট নেতাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নজির তুলে ধরেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের জন্য সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন।

অন্যদিকে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় রাজসাক্ষী (স্টেট উইটনেস) হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে প্রসিকিউশন তার সাজার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ তার খালাস (অ্যাকুইটাল) চেয়েছেন।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। অভিযোগগুলো হলো:

  • উসকানি।

  • মারণাস্ত্র ব্যবহার।

  • আবু সাঈদ হত্যা।

  • চানখারপুলে হত্যা।

  • আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।

মামলায় মোট ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। চলতি বছরের ৩ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ শেষ হয়। এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার।

আগামী ১৭ নভেম্বরের এই রায়ের মাধ্যমে জাতি ‘জুলাই গণহত্যা’র প্রথম কোনো রায় শুনবে।