সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড; সন্তোষ প্রকাশ শহীদ পরিবারের

0
36

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে এই রায় ঘোষণার পর গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আবু সাঈদের বাবা-মা ও বড় ভাই।

রায় ঘোষণার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন জুলাই যোদ্ধারা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এই ঐতিহাসিক রায়ে শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শহীদ পরিবারের প্রতিক্রিয়া:

দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি: শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন রায়ের বিষয়ে বলেন, “এই রায়ে আমরা খুশি। তবে রায় ঘোষণা হতে যে দীর্ঘসূত্রিতা হয়েছে, কার্যকর করতে যেন সময়ক্ষেপণ না হয়।” তিনি দ্রুত শেখ হাসিনাসহ সকল অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করার জোর দাবি জানান।

অপরাধীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চাইলেন মা: আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম আজকের রায়ে স্বস্তি পেলেও ছেলের কথা খুব মনে পড়ছে বলে জানান। তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন, “শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা যেন বাংলার মাটিতে আর আসতে না পারে।” সেই বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি করেন শহীদ জননী।

শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন বড় ভাই: আবু সাঈদের হত্যা মামলার বাদী ও বড় ভাই রমজান আলী রায়ের পর বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনার খবরে আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “রায়কে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেই সমস্ত সংবাদে আমরা আতঙ্কিত।” দ্রুত শহীদ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান রমজান আলী।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আসামীদের অবস্থান:

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড আন্দোলনটিকে গণঅভ্যুত্থানের রূপ দেয়। এর ফলশ্রুতিতে, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির একটি হোটেলে বসে আড্ডারত অবস্থার তার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।