গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে লন্ডনে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ব্রিটিশ সরকার। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বার্ষিক ‘আল কুদস’ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। পুলিশের বিশেষ আবেদন এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ২০১২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ব্রিটেন সরকার এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিল।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ইরানপন্থী হিসেবে পরিচিত ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ এই মিছিলের মূল আয়োজক। সংস্থাটির আয়োজিত অতীতের মিছিলগুলোতে ব্রিটেনে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুল্লাহর পতাকা ওড়ানোর মতো বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছিল। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে এই মিছিলকে কেন্দ্র করে লন্ডনে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা তীব্র জনরোষ সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। গত শনিবার ইরানি শাসনগোষ্ঠীর পক্ষ ও বিপক্ষ মতাদর্শের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হওয়ার পর থেকেই লন্ডনের পরিস্থিতি বেশ থমথমে, যা এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং একই সময়ে একাধিক পাল্টা কর্মসূচির কারণে জনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা অপরিহার্য ছিল। অন্যদিকে, আয়োজক সংস্থা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়ভীতিহীন পুলিশিংয়ের নীতি লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মিছিল নিষিদ্ধ হলেও তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি (Static protest) চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে যে, কর্মসূচকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতা তৈরি হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ মানতে নারাজ মন্ত্রী ড্যারেন জোনস। তিনি মন্তব্য করেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের অধিকার সবার থাকলেও ঘৃণা ছড়ানো বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার অনুমতি কাউকে দেওয়া হবে না।