ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে কর্মসূচি শুরু হলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এর আগে রোববার দিল্লি পুলিশ ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে যন্তর মন্তর এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল বা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
দিল্লি পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় জানায়, পূর্বানুমতি ছাড়া নির্ধারিত এলাকা ছাড়া কোথাও কোনো ধরনের বিক্ষোভ, মিছিল বা সমাবেশ করা যাবে না।
আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা তীর্থ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রী প্রবেশ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে সংগঠন গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের একাংশের সমর্থন পায়।
এদিকে গত শনিবার অনশনরত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর সোমবারের কর্মসূচি ঘিরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।