সুদানের এল-ফাশার শহরে পরিবারের সামনেই শিশু ও যুবকদের গণহত্যা করছে আরএসএফ

0
43

সুদানের এল-ফাশার শহরে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ‘গণহত্যার’ সময় পরিবারের সামনেই শিশু ও যুবকদের হত্যা করছে। বেঁচে যাওয়া স্থানীয়দের বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে ‘প্রলয়ঙ্কর মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়েছে।

বেঁচে যাওয়া এক মা জাহরা জানিয়েছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা তার সামনে থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে যায়, এক জনকে ছেড়ে দেয়, আর বড় ছেলেকে হত্যা করে। আরও একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তার দুই ছেলেকে চোখের সামনে গুলি করা হয় ও তাকে লাঠি মারা হয়।

এছাড়া আরএসএফ যোদ্ধারা পুরুষ, নারী ও শিশুকে আলাদা করে তুলে নিয়ে যায়। যুবকদের অনেকের খোঁজ মেলেনি। লাখো মানুষ এখনও এল-ফাশারে আটকা পড়ে আছে, শিশু ও নারী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ এখন পর্যন্ত পালিয়েছে, তবে আবারো বহুজন এখনো বিপদে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স জানায়, অনেককে নিরাপদ এলাকায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানবদেহের মতো বস্তু পড়েছে, যা গণহত্যার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেছেন, সুদানের পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট চলছে। আরএসএফ দাবি করেছে কিছু সদস্যকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার এর বাস্তবতা বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন।

সুদান এখন কার্যত পূর্ব-পশ্চিম দিক দিয়ে বিভক্ত; সেনাবাহিনী উত্তর, পূর্ব ও কেন্দ্রীয় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে, আর পশ্চিম দারফুর আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘাত পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন পর্যন্ত লাখো মানুষ নিহত ও প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: এএফপি