সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিন উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।
বুধবার (২৭ মে) সকাল ৯টা থেকে ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার এসব গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করেন।
তবে সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে খোলা ঈদগাহের পরিবর্তে অনেকেই নিজ নিজ ঘর কিংবা ছোট ছোট জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরপর সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানিও দেন তারা।
জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা, রায়েরপাড়া ও পশ্চিম নোয়ারপাড়া, সাপধরী ইউনিয়নের পশ্চিম মন্ডলপাড়া, উত্তর সাপধরী ও দক্ষিণ সাপধরী; সরিষাবাড়ী উপজেলার বলারদিয়া, বাউসী, সাতপোয়া, পঞ্চপীর, সাঞ্চারপাড়, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড়, বগারপাড়, কামারপাড়া ও কুমারপুর এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার লোটাবর কাজিয়াবাড়ী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, পবিত্র হজ, আরাফার দিন ও ঈদুল আজহার সঙ্গে সৌদি আরবের সময়সূচির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। সে কারণে সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা জিলহজ মাসের হিসাব শুরু করেন এবং সেই অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা ফরহাদ হোসেন বলেন, আগে বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছিল না। এখন মনে করি সঠিক নিয়মেই ইবাদত করছি। গত বছর সংবাদ মাধ্যমে এ এলাকার কথা জানতে পেরে এখানে নামাজ পড়তে আসি। এবার স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছি।
আরেক মুসল্লি বলেন, প্রতিবছর মাঠে বড় জামাত হয়। কিন্তু এবার সকাল থেকেই বৃষ্টি থাকায় ঘরের মধ্যে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আরও বেশি মানুষ অংশ নিত।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে এসব এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপন ঘিরে এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।