ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচল করা অবৈধ থ্রি-হুইলার (তিন চাকার যান) আটকের জেরে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি গাড়ি পিটিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এই চাঞ্চল্যকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে ময়নামতি হাইওয়ে থানার একটি নিয়মিত টহল দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলরত কয়েকটি থ্রি-হুইলার আটক করেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। যানগুলো আটক করার পরপরই স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ও উগ্র দল পুলিশের আইনি কাজে সরাসরি বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা হাইওয়ে পুলিশের টহল গাড়িটি লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গাড়ির কাচসহ বিভিন্ন অংশ ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে পুলিশের টহল গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার ঘটনার সময় পুরো নিমসার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত হয়ে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কের দুই পাশে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হাইওয়ে পুলিশের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে মাঠে নামে। গতকাল দুপুর থেকে শুরু করে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন থানা ও সম্ভাব্য আস্তানায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ও বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযানের সুবিধার্থে তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। এই ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি, মামলার অগ্রগতি এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বুধবার বেলা ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।