ইরানের সঙ্গে আজ চুক্তি সই হবে, জানালেন ট্রাম্প

0
3
ইরানের সঙ্গে আজ চুক্তি সই হবে, জানালেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে আজ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি সই হবে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এ ব্যাপারে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, যেখানে ইরানি আলোচকরা জানিয়েছেন এখনো সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়নি, সেখানে ট্রাম্প অস্বাভাবিকভাবে চুক্তি সইয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিপ্লবী গার্ড বলেছে, আজ ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন। তিনি হয়ত তার জন্মদিনে চুক্তি করে এটিকে একটি প্রচারণা হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে প্রথমে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ওবামার শাসনামলে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটি থামিয়েছেন এবং ইরান এখন আর অস্ত্র তৈরিই করতে চায় না। এছাড়া ইরানের সঙ্গে অন্য সরকারের চেয়ে তার সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “বারাক হুসেইন ওবামার ইরানের সাথে করা চুক্তিটি ছিল মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর একটা সহজ, সুন্দর ও মসৃণ রাস্তা। চুক্তিটা থাকলে ইরান ছয় বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত এবং এতদিনে সেটা ব্যবহারও করে ফেলত। ইরানের সাথে আমার চুক্তিটা ঠিক এর উল্টো—এটি পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানোর একটা নিরেট দেয়াল! সত্যি বলতে, তারা এখন আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র চায়ও না, আর কোনোভাবেই তা পাবেও না।”

“আগামীকালই (রোববার) এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। আর সই হওয়ার সাথে সাথেই সবার জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। ইরানের সাথে আমাদের সম্পর্ক এখন আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনেক গুণ ভালো। ওবামা প্রশাসন যেভাবে তাদের শত শত কোটি ডলার দিয়েছিল—যার মধ্যে নগদ ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চকচকে সবুজ নোটও ছিল—তার বিপরীতে আমাদের এখানে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হবে না।“

“সবকিছু যখন শান্ত হয়ে আসবে, তখন সঠিক সময়ে আমরা সেখানে যাব। আমাদের চমৎকার বি-২ বোমারু বিমান আর তাদের দক্ষ পাইলটদের ধন্যবাদ, তাদের সাহায্যেই শক্তিশালী গ্রানাইট পর্বতের গভীরে পুঁতে রাখা পারমাণবিক ধূলিকণাগুলো আমরা বের করে আনব; তারপর ইরান বা আমেরিকায় এনে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দেব।”

“আমরা ইরান এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সাথে অনেক দূর একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। আশা করি এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত, সহজে এবং মসৃণভাবে শেষ হবে। আর যদি তা না হয়, আমাদের হাতে চূড়ান্ত বিকল্প তো রইলই—আশা করি সেটা যেন আর কখনো ব্যবহার করতে না হয়!”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here