যাত্রা ও সার্কাসের ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

0
1
যাত্রা ও সার্কাসের ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত যাত্রাপালা ও সার্কাস শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত ও সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সময়ের পরিবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যাওয়া এই লোকজ বিনোদন মাধ্যমকে রক্ষায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনসহ নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দুই দিনের ‘যাত্রাশিল্পের মানোন্নয়ন’ বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী দিনে বুধবার বিকেলে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এখন থেকে যাত্রাদল ও সার্কাসের প্রাথমিক অনুমতি সরাসরি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে। এতে জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির সুযোগ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রাশিল্পকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনরুজ্জীবিত করা হবে। তবে এর নামে কোনো ধরনের অশ্লীল, জীবনবিমুখ বা সংগ্রামবিমুখ কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।

তিনি জানান, সুস্থ, রুচিশীল ও আধুনিক মানের বিনোদন নিশ্চিত করতে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় দেশের এই শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাত্রাশিল্পে বাচনভঙ্গি, শরীরী ভাষা, মঞ্চসজ্জা, প্যান্ডেল ব্যবস্থাপনা ও বাদ্যযন্ত্রে আধুনিকতার সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রাদল মালিক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাদের নানা সমস্যা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সুস্থ কর্মপরিবেশ, ঝুঁকিভাতা এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি তুলে ধরেন। আলোচনায় গ্রামীণ ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনে সামাজিক, ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটভিত্তিক নতুন প্রযোজনা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রাশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে দেশব্যাপী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জুবায়ের বাবু, বিশিষ্ট পালাকার রাখাল বিশ্বাস এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here