ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নাশকতামূলক কার্যকলাপ ‘প্রতিহত করতে’ ঢাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
পুলিশ কমিশনার বলেন, “এ দেশের জনগণ, ঢাকাবাসী অতীতে স্বৈরাচার পতনের জন্য যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। জনগণই প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। আজকে এ ধরনের নাশকতা যারা করছে, তাদের প্রতিহত করবে এই ঢাকাবাসী।”
তিনি ঢাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “ঢাকাবাসীর কাছে অনুরোধ, আপনারা আমাদের সাহায্য করুন, প্রতিরোধ সৃষ্টি করুন, আমরা সঙ্গে আছি।”
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় একটা আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে, কারণ ঢাকাবাসী আমাদের সঙ্গে আছে।”
তিনি নাশকতার সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে জানান, গত দুই দিনে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং নয়টি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবারের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “সোমবার উত্তরায় জসিমউদদীন রোডে এবং মৌচাকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয় এবং এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।”
পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি অপরিচিত কাউকে আশ্রয় না দেওয়া এবং মেস, হোটেল, গেস্ট হাউজে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখিয়ে কাউকে ওঠানোর অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, “কোনো আগন্তুককে সন্দেহজনকভাবে দেখলে থানায় অথবা ৯৯৯-এ ফোন করার অনুরোধ করছি।”
হাইকোর্টে নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হাই কোর্ট হচ্ছে বিচার পাওয়ার জায়গা, সেখানে মানুষ যাবেই। তবে আজকের যে অবস্থা ওই অবস্থা সেদিন (১৩ নভেম্বর) থাকবে না। আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেব।”
ঢাকা মহানগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আছে দাবি করে তিনি বলেন, “তবে গত এক বছরে রাস্তার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ।”