দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে বেবিচকের চিঠি

0
89

সম্প্রতি দেশে জ্বালাও-পোড়াও এবং নাশকতার ঘটনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেবিচক থেকে দেশের সবগুলো বিমানবন্দরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সৈয়দপুর, কুমিল্লা ও ঈশ্বরদী) এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে।

বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাউছার মাহমুদ জানান, “চলমান সহিংসতাসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সবাই যাতে নিরাপদে বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে, সেটা নিশ্চিতে বেবিচক সতর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।”

কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভের ঘোষণার মধ্যে গত তিন দিন ধরে দেশে জ্বালাও-পোড়াও শুরু হওয়ায় এই নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বেবিচক কর্মকর্তারা জানান। এছাড়া, সম্প্রতি শাহজালাল বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ঘটনা এবং কার্গো কমপ্লেক্স থেকে মোবাইল ফোনসহ আনসার সদস্য আটকের ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

বেবিচকের চিঠিতে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মাত্রায় জোরদার করতে নিম্নলিখিত নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে:

  • কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা: কেপিআই (Key Point Installation) নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: বিমানবন্দরে শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

  • নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে হবে।

  • তল্লাশি: বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথে সবারই (Random) নিরাপত্তা তল্লাশি করতে হবে।

  • যাত্রী ও কার্গো তল্লাশি: যাত্রী, কেবিন ব্যাগেজ, কার্গো ও যানবাহনের যথাযথ তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে।

  • টহল: বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর এলাকা ও সীমানা প্রাচীর এলাকায় নিয়মিত ও ঘন ঘন নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করতে হবে।

  • সরঞ্জাম কার্যকারিতা: নিরাপত্তা সরঞ্জাম (যেমন- জ্যামার, ইডিএস, ইটিডি, মেটাল ডিটেক্টর, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি) প্রতিদিন পরীক্ষা করে তাদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।

  • সতর্কতা ও ব্রিফিং: দায়িত্ব পালনের আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিতভাবে ব্রিফ করে সর্বদা সতর্ক অবস্থায় রাখতে হবে।

  • সন্দেহজনক কার্যকলাপ: কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

  • সিসি ক্যামেরা মনিটরিং: সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • অগ্নি সুরক্ষা: গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক লাইন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করে অগ্নি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

  • অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা: বিমানবন্দরের অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও সতর্কতা ২৪/৭ সক্রিয় রাখতে হবে।